সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ
হোম / ভিডিও গ্যালারি / মেয়েদের বিদেশে নিয়ে কিভাবে করে দেখুন…..
4-1-620x330

মেয়েদের বিদেশে নিয়ে কিভাবে করে দেখুন…..

সংযুক্ত আরব আমিরাত ফেরত কুষ্টিয়ার ‘এস’ আদ্যক্ষরের নারী কর্মী শুধু দুবাইয়ে গিয়েই দেহ ব্যবসায় বাধ্য হননি। এর আগে সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশি ট্রাভেল এজেন্সির স্বত্বাধিকারী আনোয়ার হোসেনের পাশবিকতারও শিকার হন তিনি। আর দুবাইয়ে গিয়ে প্রথম আনোয়ার হোসেনের আত্মীয় সাইফুল ইসলামের পাশবিকতার শিকার হন ওই নারী। এরপর তার ওপর নেমে আসে ধারাবাহিক পাশবিক নির্যাতন। শুক্রবার দ্য রিপোর্টের কাছে একান্ত সাক্ষাৎকারে এমনটিই বলেছেন ‘এস’।

হতভাগ্য এ নারীকে দেহ ব্যবসায় বাধ্য করা নিয়ে দ্য রিপোর্টে এর আগে ১ জুলাই প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর আদালত পল্টন থানাকে অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেনসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

‘এস’ আদ্যক্ষরের ওই নারীকে কীভাবে দালালরা দেহ ব্যবসায় বাধ্য করেছেন শুক্রবার বিকেলে তিনি তা দ্য রিপোর্টের কাছে একান্ত সাক্ষাৎকারে বিস্তারিত বলেছেন। তিনি বলেন, গত ৯ জুন তার দুবাইয়ে যাওয়ার দিন নির্ধারিত হয়। এর আগের দিন ৮ জুন মিনার ট্রাভেলসের মালিক আনোয়ার হোসেনের কথা মতো আমার স্বামী কবির হোসেনকে নিয়ে বিকেলে ফকিরাপুলে ওই ট্রাভেলসের অফিসে হাজির হই। সন্ধ্যার দিকে আনোয়ার আমার স্বামী কবিরকে বলেন, ‘অনেক দূর থেকে এসেছেন, আপনি চলে যান। আপনার স্ত্রী এখানেই অন্যদের সঙ্গে থাকবে। বিদেশে যাচ্ছে- ভাষাসহ আরও অনেক কিছু জানা দরকার তার। কাল ফ্লাইট (৯ জুন-২০১৪), রাতের মধ্যে এ সব শিখাতে হবে। আনোয়ারের কথায় চলে যান আমার স্বামী।’

তিনি বলেন, রাতে তার (আনোয়ার) অফিসের একটি রুমে সোফাতে ঘুমাতে দেওয়া হলো আমাকে। এ সময় অফিসে আর কাউকে দেখিনি। রাত ১১-১২টার দিকে আনোয়ার আমার কাছে এসে শরীরে হাত দেয়। আমি বাঁধা দিয়ে বলি এ কি করছেন আপনি। তিনি তখন বলেন- বেশি কথা বল না। আমি যা বলি শোন। তুমি কি জান তোমাকে কত কষ্ট করে ওখানে পাঠাচ্ছি। একটা ভিসা করতে কত কষ্ট হয়? কত টাকা খরচ হইছে তোমার পিছে?

‘এস’ আদ্যক্ষরের ওই নারী বলেন, আমি তাকে বলি- টাকা তো আমরা আপনাকে দিয়েছি। আপনার কিসের খরচ অইছে? আনোয়ার তখন বললেন, ‘তোমার টাকা তো দালাল সব খেয়ে ফেলেছে। আমি তখন বললাম- আমার বিদেশে যাওয়ার দরকার নেই। আমাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। তখন আনোয়ার বলেন- ঠিক আছে শুয়ে থাক। এর কিছুক্ষণ পর আনোয়ার আমাকে পাজা করে মুখ চিপে ধরে রাখে। বলে কথা বলবি না। তোকে বিদেশে পাঠাচ্ছি কি এমনি এমনি? এ সব করতে হবেই। তার কাজে বাঁধা দিলে আমাকে থাপ্পড় মারে। শেষমেশ আমার সঙ্গে খারাপ কাজ করলো সে। –এ কথা বলে কেঁদে ফেললেন ‘এস’।

ভুক্তভোগী নারী বলেন, পরদিন আমাকে দুবাই পাঠিয়ে দেয় আনোয়ার। দুবাই বিমানবন্দরে নামার পর একটি লোক আমাকেসহ ১২-১৩ জনকে গাড়িতে করে সাইফুল নামে এক বাংলাদেশি দালালের অফিসে নিয়ে যায়। ‘সাইফুল কে?’ -জানতে চাইলে ‘এস’ বলেন- সে আনোয়ারের শালা কি সুমুন্দি হবে। ওই দেশের বাংলাদেশি দালাল। আনোয়ারের মাধ্যমেই ওই দেশে সাইফুল মেয়ে মানুষ নিয়ে গিয়ে বিক্রি করে দেয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *