সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ
হোম / রাজনীতি / ওবায়দুল কাদেরের ডাকে সাড়া দেননি টিপু
full_230569143_1482585823

ওবায়দুল কাদেরের ডাকে সাড়া দেননি টিপু

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে বৈঠকে যোগ দেননি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি আলমগীর টিপু। কাদেরের নির্দেশে কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল তাকে ফোন করে বৈঠকে আসার জন্য বলেছিলেন। কিন্তু কোন কারণ না জানিয়ে বৈঠকে অনুপস্থিত থাকেন টিপু। এমনকি টিপুকে বারবার ফোন করেও সাড়া পাননি কেন্দ্রীয় নেতারা।

তবে আলমগীর টিপু জানিয়েছেন, অসুস্থ থাকায় তিনি বৈঠকে যেতে পারেননি।

রোববার (২৫ ডিসেম্বর) নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর বাসায় গিয়ে সকালের নাস্তা করেন ওবায়দুল কাদের। সেখানে ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনার জন্য চট্টগ্রাম মহানগর ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে ডেকেছিলেন কাদের।

আলমগীর টিপু ছাড়া বাকি তিন ছাত্রলীগ নেতা বৈঠকে হাজির হন। এরা হলেন, নগর ছাত্রলীগের সভাপতি সভাপতি ইমরান আহমেদ ইমু ও সাধারণ সম্পাদক নূরুল আজিম রণি এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বি সুজন।

উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড.ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরীও।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল জানান, শনিবার রাতে ফোন করে টিপুকে বৈঠকে যোগ দেয়ার জন্য ওবায়দুল কাদেরের নির্দেশের কথা বলা হয়েছিল। টিপু আসবে বলে জানিয়েছিলেন।

নাস্তা করার আগে ছাত্রলীগের নেতাদের নিয়ে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড বিষয়ে কথা বলার শুরুতেই ওবায়দুল কাদের চবি’র সভাপতি এসেছে কিনা জানতে চান। এসময় সুজন দাঁড়িয়ে বলেন, তিনি আসবেন না।

ওবায়দুল কাদের বলেন, কেন আসবে না ? তোমরা কি দুইজন দুই লাইনে চল নাকি ?

সুজন বলেন, লিডার, আমাদের মধ্যে কোন সমস্যা নেই।

ওবায়দুল কাদের বারবার কারণ জিজ্ঞেস করেও সুজনের কাছ থেকে কোন উত্তর না পেয়ে নওফেলকে বলেন টিপুকে ফোন দিতে।

ওবায়দুল কাদেরের সামনে নওফেল বেশ কয়েকবার টিপুর মোবাইলে ফোন করলেও সাড়া মেলেনি।

এসময় ওবায়দুল কাদেরকে উদ্দেশ্য করে চবি উপাচার্য বলেন, স্যার, এরা (টিপু-সুজন) আমার সামনে আসলে ঠিক থাকে। কিন্তু বাইরে গিয়ে সামান্য, ছোটখাট বিষয় নিয়ে মারামারি করে।

কাদের সুজনকে উদ্দেশ্য করে বলেন, কোন অবস্থাতেই ধৈর্য হারাবে না।

জানতে চাইলে আলমগীর টিপু বলেন, সকালে নওফেল ভাই কয়েকবার ফোন করেছিলেন। আমি বাসায় আছি। শরীরে জ্বর থাকায় বিছানা থেকে উঠতে পারিনি। মোবাইল রিসিভ করতে পারিনি।

তবে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতাদের সূত্রে ‍জানা গেছে, সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা দিয়াজ ইরফান চৌধুরীর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় তার মায়ের দায়ের করা হত্যা মামলার আসামি করা হয়েছে টিপুকে।

কমিটি ঘোষণার পর থেকে টিপু-সুজন একই কাতারে থাকলেও সম্প্রতি তাদের গ্রুপের মধ্যে কোন্দল চাঙা হয়ে উঠেছে। এর জের ধরে মারামারির ঘটনাও ঘটেছে।

অনাকাঙ্খিত এই পরিস্থিতি এড়াতে টিপু বৈঠকে যোগ দেয়া থেকে বিরত থাকেন বলে সূত্র জানিয়েছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের রাজনীতিতে আলমগীর টিপু নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

ফজলে রাব্বি সুজন নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *